সেন্ট কিট্‌স ও নেভিস

উত্তর আমেরিকার রাষ্ট্র

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (/-ˈkɪts ... ˈnvɪs/ ()) ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি সার্বভৌম দেশ। দেশটির সাংবিধানিক নাম ফেডারেশন অফ সেন্ট ক্রিস্টোফার অ্যান্ড নেভিস। এটি অ্যান্টিলিজ অঞ্চলের লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত। এটি পশ্চিম গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম সার্বভৌম রাষ্ট্র (এলাকা এবং জনসংখ্যা উভয় দিক দিয়েই)। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম সার্বভৌম ফেডারেশন রাষ্ট্র। এটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একমাত্র সার্বভৌম ফেডারেশন।

ফেডারেশন অফ সেইন্ট ক্রিস্টোফার অ্যান্ড নেভিস

সেন্ট কিটস ও নেভিসের জাতীয় পতাকা
পতাকা
সেন্ট কিটস ও নেভিসের জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্য: নিজের উপরে দেশ
জাতীয় সঙ্গীত: "ওহ ল্যান্ড অফ বিউটি!!"
সেন্ট কিটস ও নেভিসের অবস্থান
রাজধানী
ও বৃহত্তম নগরী বা বসতি
বাসেতেরে
১৭°১৮′ উত্তর ৬২°৪৪′ পশ্চিম / ১৭.৩০০° উত্তর ৬২.৭৩৩° পশ্চিম / 17.300; -62.733
সরকারি ভাষাইংরেজি
নৃগোষ্ঠী
(২০০১)[১]
  • ৯২.৫% আফ্রিকান
  • ৩% সংকর
  • ২.১% ইউরোপীয়
  • ১.৫% ভারতীয়
  • ০.৬% অন্যান্য
  • ০.৩% অনির্দিষ্ট
ধর্ম
(২০১০)[২]
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ
  • কিট্টিয়ান
  • নেভিসিয়ান
সরকারফেডারেল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র , সংসদীয় গণতন্ত্র
• রাজা
তৃতীয় চার্লস
• গভর্নর জেনারেল
স্যার টেপলি সিটন
• প্রধানমন্ত্রী
টিমোথি হ্যারিস
আইন-সভান্যাশনাল অ্যাসেম্বলি
স্বাধীনতা 
• সহযোগী রাষ্ট্র
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭
• স্বাধীনতা ঘোষণা
১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩
আয়তন
• মোট
২৬১ কিমি (১০১ মা) (১৮৮তম)
• পানি (%)
নগন্য
জনসংখ্যা
• ২০১৮ আনুমানিক
৫২,৪৪১[৩][৪] (২১৩তম)
• ২০১১ আদমশুমারি
৪৬,২০৪
• ঘনত্ব
১৬৪/কিমি (৪২৪.৮/বর্গমাইল) (৬৪তম)
জিডিপি (পিপিপি)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
$১.৭৫৮ বিলিয়ন
• মাথাপিছু
$৩১,০৯৫[৫]
জিডিপি (মনোনীত)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
$১,০৫৮ বিলিয়ন
• মাথাপিছু
$১৮,৭১৪[৫]
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৯)বৃদ্ধি ০.৭৭৯[৬]
উচ্চ · ৭৪তম
মুদ্রাপূর্ব ক্যারিবীয় ডলার (EC$) (XCD)
সময় অঞ্চলইউটিসি-৪ (AST)
গাড়ী চালনার দিকবাম
কলিং কোড+1 869
ইন্টারনেট টিএলডি.kn
  1. অথবা সেন্ট কিটস ও নেভিস

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের রাজধানী হল বাসেটেরে। এটি সেন্ট কিটস দ্বীপে অবস্থিত। বাসেটেরে বন্দর যাত্রী এবং পণ্যসম্ভার প্রবেশের প্রধান বন্দর। নেভিস দ্বীপটি সেন্ট কিটসের দক্ষিণ-পূর্বে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার (২ মাইল) দূরে অবস্থিত। এটি দ্য ন্যারোস নামক একটি অগভীর চ্যানেল জুড়ে বিস্তৃত।

অ্যাঙ্গুইলা অঞ্চল ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনস্থ ছিল। ফলে অ্যাঙ্গুলা পূর্বে এই ইউনিয়নের অংশ ছিল। ইউনিয়নটি তখন সম্মিলিতভাবে সেন্ট ক্রিস্টোফার-নেভিস-অ্যাঙ্গুইলা নামে পরিচিত ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অ্যাঙ্গুলা ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ব্রিটেনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট ইউস্টাটিয়াস, সাবা, সেন্ট বার্থেলেমি, সেন্ট-মার্টিন/সিন্ট মার্টেন এবং অ্যাঙ্গুইলা দ্বীপ রয়েছে। দেশটির পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বে অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, দক্ষিণ-পূর্বে রেডোন্ডা দ্বীপ (অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডার অংশ) এবং মন্টসেরাট দ্বীপ রয়েছে।

ব্যুৎপত্তি

নেভিস পাহাড়ে তুষারপাত

প্রাচীনকালে সেন্ট কিটস অঞ্চল লিয়ামুইগা নামে পরিচিত ছিল‌‌। এ শব্দটির অর্থ 'উর্বর ভূমি'। কালিনাগো গোষ্ঠী মূলত এই দ্বীপের আদিম বসবাসকারী ছিল।[৭] পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকার ফলে সেন্ট কিটসে বর্তমানে বহিরাগতদের আধিক্য দেখা যায়।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে আনুমানিক ১৪৯৩ সালে দ্বীপগুলি পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি সেন্ট ক্রিস্টোফারের (তার পৃষ্ঠপোষক সন্ত এবং সহযাত্রী) নামানুসারে বৃহত্তর দ্বীপটির নাম সান ক্রিস্টোবাল রেখেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে কলম্বাস এই দ্বীপের নাম রেখেছিলেন স্যান্ট ইয়াগো (সেন্ট জেমস) এবং যে দ্বীপটি এখন সাবা নামে পরিচিত তার নাম আসলে সান ক্রিস্টোবাল রাখা হয়েছিল। তবে ১৭ শতকের সময়ের নথিতে দ্বীপটিকে সান ক্রিস্টোবাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইংরেজরা নথিপত্রসমূহে এটিকে সেন্ট ক্রিস্টোফার দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যেহেতু সেন্ট ক্রিস্টোফারের ডাকনাম ছিল কিট, তাই সে সময়ে দ্বীপটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেন্ট কিটস দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করা হতো।

কলম্বাস নেভিস দ্বীপের নাম রেখেছিলেন সান মার্টিন। [৭] তবে দ্বীপটির বর্তমান নাম নেভিস স্প্যানিশ নাম "নুয়েস্ট্রা সেনোরা দে লাস নিয়েভেস" থেকে নেওয়া হয়েছে। এ নামটির অর্থ 'তুষারপাতের মহিলা'৷ কে এই দ্বীপের এই নামটি রেখেছিলেন তা জানা যায়নি। তবে দ্বীপটির নামকরণ প্রসঙ্গে একটি ৪র্থ শতাব্দীর ক্যাথলিক অলৌকিক ঘটনাটির একটি উল্লেখ করা হয়।[৮] সংবিধানে রাষ্ট্রটিকে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস অথবা সেন্ট ক্রিস্টোফার অ্যান্ড নেভিস হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস নামটি কথ্য ভাষায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সেন্ট ক্রিস্টোফার অ্যান্ড নেভিস নামটি সাধারণত কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইতিহাস

প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগ

প্রাক-আরাওয়াকান মানুষরা সম্ভবত তিন হাজার বছর আগে দ্বীপগুলিতে বসতি স্থাপন করেছিল। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।[৯][১০]:১০

ইউরোপীয় আগমন এবং প্রারম্ভিক ঔপনিবেশিক সময়কাল

১৪৯৩ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে দ্বীপগুলি পরিদর্শন করেছিলেন।[১১][১২] ১৬২৩ সালে ইংরেজরা সর্বপ্রথম বহিরাগত জনগোষ্ঠী হিসেবে এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল। ইংরেজ অভিবাসী দলের নেতৃত্বে ছিলেন থমাস ওয়ার্নার, যিনি ক্যারিব জনগোষ্ঠীর প্রধানের সাথে একটি চুক্তি করার পর সেন্ট কিটসের পশ্চিম উপকূলে ওল্ড রোড টাউনে বসতি স্থাপন করেছিলেন।[১১][১০]:১৫–১৮ পরে ফরাসিরাও পিয়েরে বেলাইন ডি'এসনাম্বুকের অধীনে ১৬২৫ সালে সেন্ট কিটসে বসতি স্থাপন করে।[১১] ফলস্বরূপ, উভয় পক্ষই দ্বীপটিকে ফরাসি এবং ইংরেজি অংশে ভাগ করতে সম্মত হয়। ১৬২৮ সাল থেকে ইংরেজরা নেভিসেও বসতি স্থাপন শুরু করে।[১১]

ফরাসি এবং ইংরেজরা দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণের মাধ্যমে স্ব-সমৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালায়, তবে তারা তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। কেননা কালিনাগো নামক স্থানীয় ক্যারিবীয় জনগোষ্ঠী তাদের নিজ বসতি রক্ষার জন্য প্রথম তিন বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়েছিল। ইউরোপীয়রা এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ লাভের চেষ্টা চালিয়েছিল। [১৩][১৪] তাদের উদ্দেশ্যকে সহজতর করার জন্য তারা একটি আদর্শিক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল। ১৬২৬ সালে অ্যাংলো-ফরাসি বসতি স্থাপনকারীরা কালিনাগোদের একটি স্থানে গণহত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। এ অঞ্চলটি পরে ব্লাডি পয়েন্ট নামে পরিচিতি লাভ করে।‍‌ তবে তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছিল যে ক্যারিবীয় জনগোষ্ঠীর লোকেরা সমস্ত ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীকে বহিষ্কার বা হত্যা করার জন্য একটি পরিকল্পনা করেছিল।[১৫][১৬] স্থানীয় জনগোষ্ঠী শান্ত হওয়ার পর ইংরেজ এবং ফরাসিরা বিশাল চিনির বাগান স্থাপন করতে শুরু করে। বাগানসমূহে প্রচুর সংখ্যক অভিবাসী আফ্রিকান দাস কাজ করতো। এই ব্যবস্থাটির ফলে উপনিবেশবাদীদের জন্য প্রচুর সম্পদের দ্বার খুলে দিয়েছিল। এ সময়ে দ্বীপের জনসংখ্যার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে কারণ কালো দাসরা শীঘ্রই ইউরোপীয়দের কিছু ব্যবধানে ছাড়িয়ে যায়।[১০]:২৬–৩১[১২]

১৬২৯ সালে ফ্রেডরিক দে টলেদো দ্বারা স্প্যানিশদের সেন্ট কিটস দখল


১৬২৯ সালের একটি স্প্যানিশ অভিযান পাঠানো হয়েছিল। তারা এ অঞ্চলে স্প্যানিশ আধিপত্য কার্যকর করে এবং ইংরেজি এবং ফরাসি উপনিবেশগুলিকে ধ্বংস করে। তারা বসতি স্থাপনকারীদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।[১০]:১৯–২৩ ১৬৩০ সালে যুদ্ধের মীমাংসার অংশ হিসেবে, স্প্যানিশরা জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইংরেজ ও ফরাসি উপনিবেশের পুনঃপ্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়।[১৭]

স্প্যানিশ শক্তির পতনের সাথে সাথে, সেন্ট কিটস বৃহত্তর ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইংরেজি এবং ফরাসি সম্প্রসারণের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। সেন্ট কিটস থেকে ব্রিটিশরা অ্যান্টিগুয়া, মন্টসেরাট, অ্যাঙ্গুইলা এবং টরটোলা দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল এবং ফরাসিরা মার্টিনিক, গুয়াডেলুপ দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট বার্থেলেমি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। ১৭ শতকের শেষের দিকে ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড সেন্ট কিটস এবং নেভিসের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করেছিল। তবে ১৭১৩ সালে ফরাসিরা ইউট্রেক্ট চুক্তির মাধ্যমে দ্বীপগুলির উপর তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া দ্বীপগুলির অর্থনীতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ১৬৯০ সালে একটি ভূমিকম্পের ফলে নেভিসের রাজধানী জেমসটাউন ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফলে ইংরেজরা চার্লসটাউনে একটি নতুন রাজধানী নির্মাণ করতে বাধ্য হয়। ১৭০৭ সালে হওয়া একটি হারিকেনের কারণে দ্বীপটির আরও অনেক ক্ষতি হয়েছিল।[১৮]:১০৫–১০৮

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল

১৮শ শতাব্দীর শুরুতে উপনিবেশটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল এবং ১৭০০-এর দশকের শেষের দিকে সেন্ট কিটস তার দাস-ভিত্তিক চিনি শিল্পের ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাথাপিছু সবচেয়ে ধনী ব্রিটিশ কলোনিতে পরিণত হয়েছিল।[১৯] ১৮শ শতাব্দীতে নেভিসের সম্পদ ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের ফলে সেন্ট কিটস এই দ্বীপটিকে অধিগ্রহণ করেছিল।[২০]

ব্রিমস্টোন পাহাড়ের দুর্গ, ১৭৮২ সালের সফল ফরাসি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু

ব্রিটেন তার আমেরিকান উপনিবেশগুলির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ফরাসিরা ১৭৮২ সালে সেন্ট কিটস পুনরায় দখল করার সুযোগ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেন্ট কিটসকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্যারিস চুক্তিতে (১৭৮৩) ব্রিটিশ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।[১১][১২]

১৮০৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে আফ্রিকান দাস ব্যবসার অবসান ঘটে এবং ১৮৩৪ সালে দাসপ্রথা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি ক্রীতদাসের জন্য একটি চার বছরের "শিক্ষনশিক্ষা" সময়কাল অনুসরণ করা হয়, যেখানে তারা তাদের প্রাক্তন মালিকদের জন্য মজুরির বিনিময়ে কাজ করত। নেভিসে ৮,৮১৫ জন ক্রীতদাস এই প্রক্রিয়ায় মুক্তি লাভ করে। অন্যদিকে সেন্ট কিটসে ১৯,৭৮০ জন দাস মুক্তি লাভ করে।[১০]:১১০,১১৪–১১৭[১৮]:১৭৪

১৮৮২ সালে অ্যাঙ্গুইলার সাথে সেন্ট কিটস এবং নেভিস সম্মিলিতভাবে একটি ফেডারেশন তৈরি করে। ২০ শতকের প্রথম কয়েক দশকে অর্থনৈতিক কষ্ট এবং সুযোগের অভাবের ফলে একটি শ্রমিক আন্দোলন পরিচালিত হয়। চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে চিনি শ্রমিকরা ১৯৩৫ সালে ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়।[২১] ১৯৪০-এর দশকে রবার্ট লেভেলিন ব্র্যাডশ-এর অধীনে সেন্ট কিটস-নেভিস-অ্যাঙ্গুইলা লেবার পার্টি (পরে নাম পরিবর্তন করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস লেবার পার্টি বা এসকেএনএলপি) প্রতিষ্ঠা করা হয়।[২২] ব্র্যাডশ পরে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত উপনিবেশের প্রিমিয়ার হন। তিনি ধীরে ধীরে চিনি-ভিত্তিক অর্থনীতিকে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনতে চেয়েছিলেন।[১০]:১৫১–১৫২ ১৯৬৫ সালে পিপলস অ্যাকশন মুভমেন্ট পার্টি (পিএএম) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ছিল তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল দল।

দ্বীপগুলি একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফেডারেশন (১৯৫৮-৬২) এর অংশ ছিল। পরে ১৯৬৭ সালে দ্বীপগুলি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন লাভ করার পাশাপাশি সেন্ট কিটস-নেভিস-অ্যাঙ্গুলা ফেডারেশন রাষ্ট্রের অংশ হয়ে ওঠে।[১১] ফেডারেশনে সেন্ট কিটসের আধিপত্যে নেভিস এবং অ্যাঙ্গুইলা উভয়ই অসন্তুষ্ট ছিল। ফলে ১৯৬৭ সালে অ্যাঙ্গুইলা একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।[১১][১২] ১৯৭১ সালে ব্রিটেন অ্যাঙ্গুইলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজের হাতে তুলে নেয় এবং এটি ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যায়।[১১][১০]:১৪৭–১৪৯[২৩] পরে সরকারের মনোযোগ নেভিসের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়। নেভিস রিফরমেশন পার্টি সরকারের সাথে আলাপের মাধ্যমে ছোট দ্বীপটির স্বার্থ রক্ষা করতে চেয়েছিল। অবশেষে তারা সরকারের সাথে এ শর্তে সম্মত হয়েছিল যে দ্বীপটির নিজস্ব প্রিমিয়ার এবং অ্যাসেম্বলি থাকবে। সেই সাথে দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসন বহাল থাকবে। আবার, স্বাধীনতার উপর একটি গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে নেভিসের একতরফাভাবে পৃথক হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থাকবে।[২৪][২৫] সেন্ট কিটস এবং নেভিস ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩-এ পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে‌।[১১][১২] পিএএম-এর কেনেডি সিমন্ডস ১৯৮০ সালে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।

পরবর্তীতে সেন্ট কিটস এবং নেভিস ব্রিটিশ কমনওয়েলথের অংশ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা রানী এলিজাবেথকে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নেয়। বর্তমানে স্থানীয় একজন গভর্নর-জেনারেল রানীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী যুগ

টিমোথি হ্যারিস, প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-বর্তমান

কেনেডি সিমন্ডস ১৯৮৪, ১৯৮৯ এবং ১৯৯৩ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তবে এসকেএনএলপি ১৯৯৫ সালে ডেনজিল ডগলাসের অধীনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।[১১][১২]

নেভিস ফেডারেশনের মধ্যে অনুভূত প্রান্তিকতা ও ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ বাড়ার ফলে ১৯৯৮ সালে সেন্ট কিটস থেকে আলাদা হওয়ার জন্য একটি গণভোট পরিচালিত হয়। গণভোটে ৬২% ভোট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে যায়, তবে আইনত কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব ছিল।[১১][১২][২৬]

১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, হারিকেন জর্জেসের ফলে আনুমানিক $৪৫,৮০,০০,০০০ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। চিনি শিল্প বছরের পর বছর ধরে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল। তারপরও এ শিল্পটি শুধুমাত্র সরকারি ভর্তুকি দ্বারা চলমান ছিল যা ২০০৫ সালে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।[১১][২৭]

২০১৫ সালের সেন্ট কিটস এবং নেভিসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে টিমোথি হ্যারিস এবং তার সম্প্রতি গঠিত পিপলস লেবার পার্টি 'টিম ইউনিটি' ব্যানারের অধীনে পিএএম এবং নেভিস-ভিত্তিক উদ্বিগ্ন নাগরিক আন্দোলনের সমর্থনে জয়ী হয়েছিল।[২৮]

২০২০ সালের জুনে, প্রধানমন্ত্রী টিমোথি হ্যারিসের নেতৃত্বে টিম ইউনিটি জোট সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস লেবার পার্টি (এসকেএনএলপি)কে পরাজিত করে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল।[২৯]

রাজনীতি

গভর্নমেন্ট হাউস, বাসেটেরে হল সেন্ট কিটস এবং নেভিসের গভর্নর-জেনারেলের সরকারি বাসভবন।
সেন্ট কিটস এবং নেভিসের সরকারি সদর দপ্তর
নেভিস দ্বীপের অ্যাসেম্বলি

সেন্ট কিটস এবং নেভিস একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক এবং ফেডারেল রাষ্ট্র।[৩০] এটি একটি কমনওয়েলথ রাজ্য এবং এতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চালু রয়েছে।[৩১] সেন্ট ক্রিস্টোফার এবং নেভিসের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রাণীর প্রতিনিধিত্ব করেন একজন গভর্নর-জেনারেল, যিনি প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার পরামর্শে কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রের বিষয়গুলি পরিচালনা করে।

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে, যা জাতীয় পরিষদ নামে পরিচিত। এটি চৌদ্দ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, যার এগারো জন হলেন নির্বাচিত প্রতিনিধি (নেভিস দ্বীপ থেকে তিন জন) এবং তিন জন সিনেটর যারা গভর্নর জেনারেল দ্বারা নিযুক্ত হন। সিনেটরদের মধ্যে দুজন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং একজন বিরোধীদলীয় নেতার পরামর্শে নিয়োগ পান। অন্যান্য দেশের মতো সিনেটররা আলাদা সিনেট বা সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করেন না, তবে প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জাতীয় পরিষদে বসেন। সমস্ত সদস্য পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। নেভিসের নিজস্ব আধা-স্বায়ত্তশাসিত আইনকক্ষও রয়েছে।

বিদেশী সম্পর্ক

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের কোন গুরুতর আন্তর্জাতিক বিরোধ নেই। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি (ক্যারিকম), অর্গানাইজেশন অফ ইস্টার্ন ক্যারিবিয়ান স্টেটস (ওইসিএস) এবং অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) এর পূর্ণ সদস্য।

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সালে ওএএস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।[৩২]

চুক্তি

ক্যারিকম চুক্তি ১৯৯৪

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের প্রতিনিধি হিসেবে কেনেডি সিমন্স ১৯৯৪ সালের ৬ জুলাই দ্বৈত ট্যাক্সেশন রিলিফ (ক্যারিকম) চুক্তি স্বাক্ষর করেন।[৩৩]

সাতটি ক্যারিকম দেশের প্রতিনিধিরা শেরবোর্ন কনফারেন্স সেন্টার, সেন্ট মাইকেল, বার্বাডোজে অনুরূপ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।[৩৩] দেশগুলো হলো: অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বেলিজ, গ্রানাডা, জ্যামাইকা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো।[৩৩] এই চুক্তি কর, বাসস্থান, করের এখতিয়ার, মূলধন লাভ, ব্যবসায়িক লাভ, সুদ, লভ্যাংশ, রয়্যালটি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে বিস্তৃত।

এফএটিসিএ চুক্তি

৩০ জুন ২০১৪-এ, সেন্ট কিটস এবং নেভিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট (এফএটিসিএ) সম্পর্কিত একটি মডেল ১ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে৷[৩৪] ২৮ এপ্রিল ২০১৬-এ চুক্তিটি কার্যকর হয় ।

সামরিক

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে , যাতে ৩০০ জন কর্মরত রয়েছেন। তারা পুলিশিং এবং মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য কাজ করছেন।

মানবাধিকার

সেন্ট কিটস এবং নেভিসে পুরুষ সমকামিতা অবৈধ৷[৩৫] ২০১১ সালে, সেন্ট কিটস এবং নেভিস সরকার বলেছিল যে এটি সম্মতি প্রদানকারী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমকামিতাকে অপরাধ আখ্যা দেয়া বাতিল করার জন্য জনগণকে কোনো আদেশ দেয়নি।[৩৬]

প্রশাসনিক বিভাগ

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের ফেডারেশন চৌদ্দটি বিভাগে বিভক্ত । এর মধ্যে সেন্ট কিটসে নয়টি বিভাগ এবং নেভিসে পাঁচটি বিভাগ রয়েছে ।

বিভাগরাজধানীজনসংখ্যাঅঞ্চল (km2)জনসংখ্যা (প্রতি কিলোমিটারে)2দ্বীপ
ক্রাইস্ট চার্চ নিকোলানিকোলা১,৯২২১৮১০৭সেন্ট কিটস
সেন্ট আন্নে স্যান্ডিস্যান্ডি পয়েন্ট২,৬২৬১৩২০২সেন্ট কিটস
সেন্ট জর্জ বাসেতেরেবাসেতেরে১২,৬৩৫২৯৪৩৬সেন্ট কিটস
সেন্ট জন ক্যাপিস্টেরেডিয়েপ্পে বে২,৯৬২২৫১১৮সেন্ট কিটস
সেন্ট মেরি কেয়নকেয়ন৩,৪৫৩১৫২২৯সেন্ট কিটস
সেন্ট পল ক্যাপিস্টেরেসেন্ট পল ক্যাপিস্টেরে২,৪৩২১৪১৭৪সেন্ট কিটস
সেন্ট পিটার বাসেতেরেমাংকি হিল৪,৬৭০২১২২২সেন্ট কিটস
সেন্ট থমাস মিডল আইল্যান্ডমিডল আইল্যান্ড২,৫৩৫২৫১০১.৪সেন্ট কিটস
ট্রিনিটি পালমেতোট্রিনিটি১,৭০১১৬১০৬সেন্ট কিটস
সেন্ট জর্জ জিঞ্জারল্যান্ডমার্কেট সপ২,৪৯৬১৮১৩৯নেভিস
সেন্ট জেমস উইন্ডওয়ার্ডনিউক্যাসেল২,০৩৮৩২৬৪নেভিস
সেন্ট জন ফিগট্রিফিগট্রি৩,৮২৭২২১৭৪নেভিস
চার্লসটাউনচার্লসটাউন১,৮৪৭৪৬২নেভিস
সেন্ট থমাস লোল্যান্ডকটন গ্রাউন্ড২,০৬৯১৮১১৫নেভিস

ভূগোল

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের একটি মানচিত্র
সেন্ট কিটসের দক্ষিণ-পূর্ব উপদ্বীপ থেকে নেভিস দ্বীপের একটি দৃশ্য

সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস দুটি প্রধান দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এটি ২ মাইল (৩ কিলোমিটার) দূরে দ্য ন্যারোস স্ট্রেইট রেখা দ্বারা বিভক্ত।[১১] উভয় দ্বীপই আগ্নেয়গিরি হতে উৎপন্ন। দ্বীপসমূহের বড় কেন্দ্রীয় চূড়াগুলি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টে আচ্ছাদিত।[১] দেশটির জনসংখ্যার অধিকাংশই উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে।[১] সেন্ট কিটস এর কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি পর্বতশ্রেণী (উত্তর পশ্চিম রেঞ্জ, কেন্দ্রীয় রেঞ্জ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রেঞ্জ) রয়েছে, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, মাউন্ট লিয়ামুইগা ১,১৫৬ মিটার (৩,৭৯৩ ফুট) অবস্থিত।[১১] দ্বীপটির পূর্ব উপকূল বরাবর কানাডা পাহাড় এবং কোনারি পাহাড় অবস্থিত। ভূমিটি দক্ষিণ-পূর্বে যথেষ্ট সরু হয়ে গেছে। এটি একটি অনেক চ্যাপ্টা উপদ্বীপ তৈরি করেছে। সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের সবচেয়ে বড় জলাধার গ্রেট সল্ট পুকুর এখানে অবস্থিত। উভয় দ্বীপের পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য নদী রয়েছে, যা স্থানীয় জনগণকে মিষ্টি পানি সরবরাহ করে। নেভিস দুটি প্রধান দ্বীপের মধ্যে ছোট এবং আকৃতিতে মোটামুটি বৃত্তাকার। নেভিসের সর্বোচ্চ চূড়া নেভিস পিকের উচ্চতা ৯৮৫ মিটার (৩,২৩২ ফুট)।[১]

সেন্ট কিটস এবং নেভিসে দুটি স্থল পরিবেশ রয়েছে: লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের আর্দ্র বন এবং লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের শুষ্ক বন।[৩৭] দেশটি ২০১৯ ফরেস্ট ল্যান্ডস্কেপ ইন্টিগ্রিটি ইনডেক্স মানে ৪.৫৫/১০ স্কোর পেয়েছিল। এটি ১৭২টি দেশের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১২১তম স্থানে রয়েছে।[৩৮]

প্রাণীজগত

সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের জাতীয় পাখি হল বাদামী পেলিকান।[৩৯] এখানে ১৭৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে।[৪০]

জলবায়ু

কোপেন জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ অনুসারে, সেন্ট কিটস এর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু (কোপেন আউ) এবং নেভিসের একটি ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু রয়েছে (কোপেন আম)।[৪১] বাসেতেরে-এ গড় মাসিক তাপমাত্রা ২৩.৯°সে (৭৫°ফা) থেকে ২৬.৬°সে (৭৯.৯°ফা) পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,৪০০ মিলিমিটার (৯০ ইঞ্চি), যদিও এটি ১৯০১-২০১৫ সময়কালে ১,৩৫৬ মিলিমিটার (৫৩.৪ ইঞ্চি) থেকে ৩,১৮৩ মিলিমিটার (১২৫.৩ ইঞ্চি) পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়েছে।

জনসংখ্যা

বাসেতেরে শহর

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ধর্ম(২০১১ সালে)[৪২][৪৩]

  অ্যাংলিকান (১৬.৬১%)
  মেথোডিস্ট (১৫.৭৭%)
  পেন্টেকোস্টাল (১০.৭%)
  চার্চ অফ গড (৭.৪%)
  অন্যান্য (৫.৬%)
  মোরাভিয়ান (৪.৮%)
  কোন ধর্ম নেই (নাস্তিকতা, অজ্ঞেয়বাদ ইত্যাদি) (৮.৭%)
  ব্যাপটিস্ট (৫.৪৩%)
  সপ্তমী-দিন অ্যাডভেন্টিস্ট (৫.৪%)
  রাস্ট্রাফারিয়া (১.৩%)
  ব্রেদেন (১.৭%)
  জেভোয়াহর সাক্ষী (১.৪%)
  প্রেসবিটেরিয়ান (১.৩৮%)
  হিন্দু (১.৮২%)
  মুসলিম (০.৫২%)
  ওয়েসলেয়ান (৫.৩%)

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের জনসংখ্যা প্রায় ৫৩,০০০ (জুলাই ২০১৯ এর অনুমান সাপেক্ষে)[১] এবং অনেক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে।[১১] ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এখানে ৪২,৬০০ জন বাসিন্দা ছিল। তবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সংখ্যাটি ধীরে ধীরে ৫০,০০০-এর কিছু বেশি হয়ে যায়।[৪৪] ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে, জনসংখ্যা ৫০,০০০ থেকে ৪০,০০০-এ নেমে এসেছিল যা আবার পরে বৃদ্ধি পায়। সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সেন্ট কিটসে বাস করে, যার ১৫,৫০০ জন রাজধানী বাসেটারেতে বাস করে। অন্যান্য বৃহৎ বসতিগুলির মধ্যে রয়েছে কেয়ন (জনসংখ্যা ৩,০০০) এবং স্যান্ডি পয়েন্ট শহর (৩,০০০)। উভয়ই সেন্ট কিটসে অবস্থিত। নেভিসে বৃহত্তম জনসংখ্যার দ্বীপ হলো জিঞ্জারল্যান্ড (২,৫০০) এবং চার্লসটাউন (১,৯০০)।

জাতিগত গোষ্ঠী

২০০১ সালের অনুমান অনুসারে সেন্ট কিটস ও নেভিসের জনসংখ্যা প্রাথমিকভাবে আফ্রো-ক্যারিবিয়ান (৯২.৫%), ইউরোপীয় (২.১%), ভারতীয় বংশোদ্ভূত(১.৫%) ও অন্যান্য (৩.৯%)।[১]

দেশত্যাগ

২০১৮ সালের হিসাবে, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসে ৫২,৪৪১ আবাসিক লোকের বসবাস ছিল। সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের গড় আয়ু ৭৬.৯ বছর। ঐতিহাসিকভাবে, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের অধিবাসীদের নিজ দেশত্যাগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি হওয়া সত্ত্বেও ২০০৭ সালে মোট আনুমানিক জনসংখ্যা ১৯৬১ সালের তুলনায় সামান্য পরিবর্তিত হয়েছিল।[৪৫]

সেন্ট কিটস এবং নেভিস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন:[৩৯]

১৯৮০-১৯৯০: ৩,৫১৩

১৯৯১-১৯৯৫: ২,৭৩০

১৯৯৬-২০০০: ২,১০১

২০০১-২০০৫: ১,৭৫৬

২০০৬-২০১০: ১,৮১৭

ধর্ম

অধিকাংশ অধিবাসী (৮২%) হল খ্রিস্টান। তারা প্রধানত অ্যাংলিকান এবং অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

হিন্দুধর্ম হল বৃহত্তম অ-খ্রিস্টান ধর্ম। জনসংখ্যার ১.৮২% এ ধর্ম অনুসরণ করে।[৪২]

সংস্কৃতি

ভাষা

ইংরেজি একমাত্র সরকারি ভাষা। তবে সেন্ট কিটস অঞ্চলে ক্রেওল ভাষার ব্যবহার লক্ষণীয়।

সঙ্গীত এবং উৎসব

সেন্ট কিটস এবং নেভিস কার্নিভাল (একটি উৎসব, যা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি সেন্ট কিটসে অনুষ্ঠিত হয়) সহ বেশ কয়েকটি উৎসব সঙ্গীত উদযাপনের জন্য পরিচিত। জুনের শেষ সপ্তাহে সেন্ট কিটসে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নেভিসে সপ্তাহব্যাপী কালচারামা জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত চলে।[৪৬]

সেন্ট কিটস দ্বীপে অনুষ্ঠিত অন্যান্য উৎসবগুলির মধ্যে রয়েছে ইনার সিটি ফেস্ট, যা ফেব্রুয়ারি মাসে মোলিনাক্সে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিন ভ্যালি ফেস্টিভ্যাল সাধারণত কেয়ন গ্রামে হুইট সোমবারের কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। স্যান্ডি পয়েন্ট গ্রামে ইস্টারের কাছাকাছি সময়ে ইস্টারমা উৎসব উদযাপিত হয়। জুলাই বা আগস্ট মাসে ট্যাবারনেকল গ্রামে ফেস্ট-ট্যাব উৎসব হয়। ক্যাপিস্টেরে অঞ্চলে সেন্ট কিটস এবং নেভিসের (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে লা ফেস্টিভ্যাল ডি ক্যাপিস্টেরে উদযাপিত হয়। এই উদযাপনগুলিতে সাধারণত প্যারেড, রাস্তার নাচ এবং সালসা, জ্যাজ, সোকা, ক্যালিপসো এবং স্টিলপ্যান মিউজিক দেখা যায়।

১৯৮৫ সালের ছবি মিসিং ইন অ্যাকশন ২: দ্য বিগিনিং সেন্ট কিটসে চিত্রায়িত হয়েছিল।[৪৭]

খেলাধুলা

সেন্ট কিটস এবং নেভিসে ক্রিকেট তুমুল জনপ্রিয় খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের জন্য সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস থেকেও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। প্রয়াত রুনাকো মর্টন ছিলেন নেভিস থেকে আগত খেলোয়াড়। সেন্ট কিটস এবং নেভিস সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে ২০০৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করে।[৪৮]

সেন্ট কিটস এবং নেভিসে রাগবি এবং নেটবল খেলার প্রচলন দেখা যায়।

সেন্ট কিটস এবং নেভিস জাতীয় ফুটবল দল "সুগার বয়েজ" নামেও পরিচিত। তারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কিছু আন্তর্জাতিক সাফল্যের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। তারা কনকাকাফ অঞ্চলে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপের যোগ্যতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে অগ্রসর হয়েছিল৷ গ্লেন্স গ্লাসগোর নেতৃত্বে, তারা মেক্সিকো, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কাছে পরাজিত হওয়ার আগে ইউএস ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জবার্বাডোসকে পরাজিত করেছিল। দেশের প্রতিনিধিত্ব না করলেও, মার্কাস র‍্যাসফোর্ড সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস বংশোদ্ভূত একজন ইংরেজ খেলোয়াড়।

সেন্ট কিটস এবং নেভিস বিলিয়ার্ড ফেডারেশন (এসকেএনবিএফ) হল দুটি দ্বীপ জুড়ে গঠিত কিউ স্পোর্টসের পরিচালনা পর্ষদ। এসকেএনবিএফ ক্যারিবিয়ান বিলিয়ার্ডস ইউনিয়নের (সিবিইউ) সদস্য। এসকেএনবিএফ প্রেসিডেন্ট স্টে উইলিয়ামস সিবিইউ ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদে অধিষ্ঠিত।

কিম কলিন্স হলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেট৷ তিনি অ্যাথলেটিক্স এবং কমনওয়েলথ গেমস উভয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে স্বর্ণপদক জিতেছেন এবং ২০০০ সিডনি অলিম্পিকে তিনি দেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ যিনি অলিম্পিক ফাইনালে পৌঁছেছেন। বেইজিং-এ ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে তিনি এবং অন্য তিনজন ক্রীড়াবিদ সেন্ট কিটস এবং নেভিসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। চার বাই একশ মিটার রিলে দল ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।[৪৯] তিনি জেসন রজার্স, অ্যান্টোইন অ্যাডামস এবং ব্রিজেশ লরেন্স কলিন্সের সাথে অন্য তিনটি রিলে লেগ দৌড়েছিলেন।

আমেরিকান লেখক এবং প্রাক্তন ফিগার স্কেটার এবং ট্রায়াথলিট ক্যাথরিন বার্টিনকে ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সেন্ট কিটস এবং নেভিসকে মহিলাদের সাইক্লিংয়ে প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়াসে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার গল্পটি ইএসপিএন.কম-এ "তুমি কি অলিম্পিয়ান হতে চাও?" শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত অলিম্পিক যোগ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জন করতে ব্যর্থ হন।[৫০]

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের পক্ষে ২০১০ ইউসিআই রোড ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে টাইম ট্রায়ালে দুইজন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন: রেজিনাল্ড ডগলাস এবং জেমস উইকস।[৫১]

অর্থনীতি

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের রপ্তানির আনুপাতিক উপস্থাপনা, ২০১৯
সেন্ট কিটস এবং নেভিসের রাজধানী শহর বাসেতেরে

সেন্ট কিটস এবং নেভিস একটি দ্বীপ ফেডারেশন হওয়ায় এর অর্থনীতিতে পর্যটন, কৃষি এবং হালকা উৎপাদন শিল্প প্রভৃতি খাত বড় ভূমিকা রাখে।[১] ১৯৪০ সাল থেকে চিনি ছিল সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। তবে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ, কম বিশ্ববাজারের দামের ফলে এ শিল্প বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। তাই চিনি শিল্পের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য সরকারের প্রচেষ্টার ফলে কৃষি খাত ক্রমান্বয়ে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তরিত হয়। ২০০৫ সালে, সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিনি কোম্পানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা এটি বছরের পর বছর লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল এবং রাজস্ব ঘাটতির জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী ছিল।[১][১১]

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের অর্থনীতি পর্যটন খাতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।[১][১১] পর্যটন একটি অর্থনৈতিক খাত হিসেবে ১৯৭০ এর দশক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। ২০০৯ সালে সেন্ট কিটসে ৫,৮৭,৪৭৯ জন দর্শনার্থী আগমন করেছিলেন। ২০০৭ সালে ৩,৭৯,৪৭৩ এর তুলনায় দুই বছরের মধ্যে বৈদেশিক আগমন ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কটের সময় পর্যটন খাত কমেছে এবং সম্প্রতি আগের স্তরে ফিরে এসেছে।[১] সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকার কৃষি, পর্যটন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন এবং অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করেছে।[১]

জুলাই ২০১৫-এ, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস এবং রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ড "তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রচার" করার জন্য একটি কর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে৷ এই চুক্তিটি গ্লোবাল ফোরাম ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ অফ ইনফরমেশন দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, যেটিতে ওইসিডি সদস্য দেশ এবং ক্যারিবিয়ান এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের ১১টি অন্যান্য দেশের প্রতিনিধি রয়েছে।[৫২]

পরিবহন

সেন্ট কিটসে রবার্ট এল. ব্র্যাডশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
নেভিসের ভ্যান্স ডব্লিউ অ্যামোরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

সেন্ট কিটস এবং নেভিসের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। সবচেয়ে বড়টি হল সেন্ট কিটস দ্বীপের রবার্ট এল. ব্র্যাডশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যা ক্যারিবিয়ান, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বাইরে পরিষেবা প্রদান করে। অন্য একটি বিমানবন্দর ভ্যান্স ডব্লিউ অ্যামোরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা নেভিস দ্বীপে অবস্থিত।

সেন্ট কিটস সিনিক রেলওয়ে হল লেসার অ্যান্টিলেসের চলমান রেলপথ।

বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক নাগরিকত্ব

সেন্ট কিটস বিনিয়োগ-দ্বারা-নাগরিকত্ব নামে একটি সরকারি স্পনসরকৃত বিনিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশিদের সেন্ট কিটস নাগরিকের মর্যাদা পেতে দেয়।[১][৫৩] ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের নাগরিকত্ব প্রোগ্রাম হল বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো প্রচলিত অর্থনৈতিক নাগরিকত্ব কর্মসূচি। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম নাগরিকত্ব প্রোগ্রাম হলেও এটি ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করে যখন হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস নামক একটি বিশ্বব্যাপী নাগরিকত্ব উপদেষ্টা সংস্থা দেশের চিনি শিল্পে অনুদান অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রোগ্রামটির পুনর্গঠনে জড়িত হয়।[৫৪]

দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং কর ফাঁকির ঝুঁকির কারণে কিছু গবেষকদের দ্বারা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচির সমালোচনা করা হয়েছে।[৫৫] সেন্ট কিটসের বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে তারা নাগরিকত্ব প্রদান করার মাধ্যমে একাধিক সুবিধা দিয়ে থাকেন। সেন্ট কিটসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখিত আছে: " যখন আপনি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস নাগরিকত্ব প্রোগ্রামের অধীনে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তখন আপনি এবং আপনার পরিবার জীবনের জন্য পূর্ণ নাগরিকত্ব উপভোগ করেন। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক হিসেবে, আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের পাসপোর্ট দেওয়া হয় যা সমস্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ বিশ্বব্যাপী ১৪০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের অনুমতি দেয়। অবশ্যই আপনার সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসে বাসস্থান গ্রহণের অধিকার বজায় থাকবে, সেই সাথে ক্যারিকম সদস্যদের অধিকাংশ দেশে যে কোন সময় এবং যেকোন সময় দৈর্ঘ্যের জন্য আপনার বসবাসের অধিকার থাকবে"।[৫৬]

প্রতিটি প্রার্থীকে অবশ্যই বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, একটি বৃহৎ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগ কর্মসূচির অধীনে নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য কিছু আইনি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। সেন্ট কিটস এবং নেভিসের অর্থনৈতিক নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য আবেদনকারীকে একটি অনুমোদিত রিয়েল এস্টেট বা সুগার ইন্ডাস্ট্রি ডাইভারসিফিকেশন ফাউন্ডেশন (একটি পাবলিক দাতব্য সংস্থা) তে ন্যূনতম বিনিয়োগ করতে হবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][৫৭]

হেনলি অ্যান্ড পার্টনারসের মতে, প্রয়োজনীয়তাগুলি নিম্নরূপ[৫৮][৫৯]:

  1. ন্যূনতম US$৪,০০,০০ মূল্যের মনোনীত রিয়েল এস্টেটে একটি বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও সরকারি ফি এবং অন্যান্য ফি এবং ট্যাক্স প্রদান করতে হবে।
  1. সুগার ইন্ডাস্ট্রি ডাইভারসিফিকেশন ফান্ডে কমপক্ষে US$২৫০,০০০ অর্থমূল্যের অবদান রাখতে হবে (আনুষাঙ্গিক ফিস সহ)।

ইম্পেরিয়াল অ্যান্ড লিগ্যাল অনুসারে, ১ এপ্রিল ২০১৮ থেকে সেন্ট কিটস এবং নেভিস সরকার একটি নতুন বিনিয়োগ বিকল্প প্রয়োগ করেছে – টেকসই বৃদ্ধি তহবিলে অবদান (এসজিএফ)। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য, যে সমস্ত আবেদনকারীরা এসজিএফ-এ বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন তাদের $১,৫০,০০০ (আনুষাঙ্গিক ফিস সহ) অ-ফেরতযোগ্য অবদান রাখতে হবে।[৬০]

শিক্ষা

সেন্ট কিটস এবং নেভিসে আটটি সরকারিভাবে পরিচালিত উচ্চ ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুল এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে শিক্ষা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।[১১]

পরিবহন

দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী রবার্ট লেভেললিন ব্রাডশ এর নামাঙ্কিত বাসেটেরে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্রাডশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো দেশটির প্রধান বিমানবন্দর। লন্ডনের মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য শহরের সাথে যুক্ত রয়েছে।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

আরও পড়ুন

তথ্যসূত্র

🔥 Top keywords: রাম নবমীমুজিবনগর দিবসপ্রধান পাতামুজিবনগর সরকারবিশেষ:অনুসন্ধানইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগএক্স এক্স এক্স এক্স (অ্যালবাম)বাংলাদেশবাংলা ভাষামিয়া খলিফারাজকুমার (২০২৪-এর চলচ্চিত্র)আনন্দবাজার পত্রিকাআবহাওয়ারামপহেলা বৈশাখউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগইসরায়েলইরানরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরমুজিবনগরইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউনরিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব২০২৪ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগক্লিওপেট্রাচর্যাপদভূমি পরিমাপশেখ মুজিবুর রহমানজনি সিন্সকাজী নজরুল ইসলামঈদুল আযহাফিলিস্তিনইউটিউবভারতবিকাশআসসালামু আলাইকুমসৌদি আরববাংলা প্রবাদ-প্রবচনের তালিকামুহাম্মাদ